সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পূর্ণাঙ্গ কার্গো ক্লিয়ারেন্সের দাবি

দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের জোরালো আন্দোলনের মুখে আগামী ১ জুলাই থেকে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার-সিলেট রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। বিমানের এই ঘোষণায় প্রবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, কার্গো পণ্য খালাস নিয়ে রয়ে গেছে চরম অসন্তোষ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি কার্গো ক্লিয়ারেন্স বা পণ্য খালাসের সুবিধা চালুর নতুন এবং যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেছেন।

uk-community-leaders-meeting-sylhet-airport-cargo-demand


উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের মূল অভিযোগের জায়গাটি ছিল কার্গো পরিবহন ব্যবস্থা। বক্তারা জানান, ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হলেও কার্গো পণ্যের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার থেকে পাঠানো কার্গো পণ্য সরাসরি সিলেটে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও তা প্রথমে চলে যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে কাস্টমস ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া (ক্লিয়ারেন্স) সম্পন্ন হওয়ার পর সেই পণ্যগুলো পুনরায় সিলেটে পাঠানো হয়। এটি একটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, যা গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে দিচ্ছে।


মতবিনিময় সভায় এই ভোগান্তি নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে। তা হলো— সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে শুধুমাত্র নামমাত্র নয়, বরং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো পূর্ণাঙ্গ রূপে পরিচালিত করতে হবে।

সভায় এই দাবির পক্ষে জোরালো যুক্তি ও বক্তব্য তুলে ধরেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারভিত্তিক স্বনামধন্য কার্গো প্রতিষ্ঠান 'এক্সপ্রেস কার্গো'-এর চেয়ারম্যান মো. এনামুল করিম। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, "সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী যাতায়াত করেন এবং প্রচুর পণ্য আদান-প্রদান হয়। অথচ কার্গো ক্লিয়ারেন্সের জন্য আমাদের অযৌক্তিকভাবে ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়। আমরা চাই ঢাকার মতো সিলেটেও সরাসরি পণ্য খালাস ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। এটি নিশ্চিত হলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।"


যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, বিমান কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যেন প্রবাসীদের এই ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ কার্গো ভিলেজ ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ম্যানচেস্টার-সিলেট ফ্লাইটের পাশাপাশি কার্গো জটিলতার এই স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হলে, তা প্রবাসীদের সেবায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, এক্সপ্রেস টিভি