লন্ডন-বাংলাদেশ রুটে বিমানের টিকিটে অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি: ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা

রানওয়েতে পার্ক করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ এবং পেছনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার


কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়াই যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটের টিকিটের ওপর ২০৭ পাউন্ড (প্রায় ৩০ হাজার টাকা) কর বা ট্যাক্স বৃদ্ধি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিটি রিটার্ন টিকিটের মূল্য একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ সোলায়মান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা হেড অফিসের নির্দেশনায় বিমানের সব আন্তর্জাতিক রুটেই এই বর্ধিত হার ধার্য করা হয়েছে। তবে অন্যান্য রুটের তুলনায় যুক্তরাজ্য রুটে এই বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। বিমান সূত্রমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির (অ্যাভিয়েশন ফুয়েল) দাম লিটারপ্রতি ১.৪৮ ডলারে পৌঁছানোয় কর্তৃপক্ষ এই কর আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে প্রবাসীরা বলছেন, লন্ডন-ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানের সাধারণ ভাড়া অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সের তুলনায় আগে থেকেই ২০০ থেকে ৩০০ পাউন্ড বেশি ছিল। তার ওপর নতুন করে এই বিশাল অঙ্কের ট্যাক্স যুক্ত হওয়ায় বিমানের টিকিট এখন সাধারণ যাত্রীদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে দেশে যাতায়াতকারী প্রবাসীরা এতে চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।

ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতারা এই সিদ্ধান্তকে 'অবিচার' হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও পূর্বঘোষণা ছাড়া এভাবে হঠাৎ কর বৃদ্ধি যাত্রীদের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটায়। অ্যাভিয়েশন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম না কমলে বা ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল না হলে ভবিষ্যতে ভাড়া আরও বাড়তে পারে। প্রবাসীরা দ্রুত এই বর্ধিত কর পুনর্বিবেচনা করে যাত্রীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।