অক্টোবর পর্যন্ত ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করল লুফথানসা
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশচুম্বী। এর জেরে ইউরোপে বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নিজেদের ২০ হাজার স্বল্পপাল্লার ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে জার্মানির শীর্ষ বিমান সংস্থা লুফথানসা গ্রুপ।
লুফথানসা গ্রুপ জানিয়েছে, সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে ফ্লাইট বাতিলের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। মে মাসের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১২০টি করে ফ্লাইট বাতিল থাকবে। এই বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট কমানোর ফলে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউরোপে গভীর জ্বালানি সংকটের শঙ্কা ইউরোপ তাদের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানি করে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে বাধাগ্রস্ত হলে আগামী সপ্তাহগুলোতে পুরো ইউরোপজুড়েই তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি 'রেশনিং' বা নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইন্সগুলোর একই চিত্র জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব শুধু লুফথানসার ওপরই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোর ওপরও পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইটের সময়সূচি কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে।
জেট ফুয়েলের গড় দাম আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায়, একসময়ের লাভজনক রুটগুলোতেও এখন ফ্লাইট পরিচালনা করা এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, এক্সপ্রেস টিভি
