বিমানবন্দরে দ্রুত কার্গো খালাসে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ
বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানি করা কার্গো পণ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে খালাসের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনা চালু হলে দেশের এভিয়েশন খাতে সেবার মান ও দক্ষতা আরও বাড়বে।
সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণ নিয়ে আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে পণ্য দ্রুত খালাসের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আরও নিরাপদ, আধুনিক এবং দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। দীর্ঘদিন ধরে থাকা বিভিন্ন কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সহজ করার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে গতি আনতে হবে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আফরোজা খানম বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু অন্যদের অনুসরণ করবে না; বরং ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থানে যেতে চায়।
তার মতে, কার্গো পণ্য শনাক্তকরণ, সংরক্ষণ ও দ্রুত খালাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিমানবন্দরের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
এ সময় দ্রুত স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের ওপরও জোর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা যাচাই, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র এবং শুল্কসংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা কাস্টমসের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হলে বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত দূর করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সভায় অস্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং স্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসব স্থানের উপযোগিতা বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর পাশাপাশি ওষুধসহ সংবেদনশীল পণ্য আমদানি ও রপ্তানির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার বা বিশেষায়িত স্টোরেজ সুবিধা তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। ওষুধের মতো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল পণ্য সঠিক পরিবেশে সংরক্ষণ করা গেলে এসব পণ্যের হ্যান্ডলিং আরও নিরাপদ ও দ্রুত করা সম্ভব হবে।
কার্গো ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বাড়াতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্য পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের কাছে দ্রুত নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে আমদানিকারকরা দ্রুত পণ্যের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পণ্য খালাস করতে পারবেন।
বিমানবন্দরে পড়ে থাকা বা নির্দিষ্ট পণ্য দ্রুত শনাক্ত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি মডেল তৈরির বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। এ ধরনের প্রযুক্তি চালু করা গেলে বিপুল পরিমাণ কার্গোর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট পণ্য দ্রুত খুঁজে বের করা এবং এর অবস্থান শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ওয়্যারহাউস সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা, দ্রুত নোটিশ প্রদান এবং এআইভিত্তিক পণ্য শনাক্তকরণ ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর করা গেলে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
