সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবারও ইরানি হামলা: উত্তেজনা তুঙ্গে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটি ইরানি মিসাইল ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে ইরান এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তারা আমিরাতের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করেনি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা যদি কোনো হামলা চালাত, তবে তা লুকাত না বরং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করত। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মঙ্গলবারের এই হামলার আগে গত সোমবারও একটি বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে অন্তত তিনজন আহত হন। সেই হামলায় ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। এই ফুজাইরাহ বন্দরটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে সরাসরি ওমান উপসাগর দিয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ করে দেয়। সোমবারের ঐ হামলায় আহত তিন ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকার একে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছে।
উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' নামক একটি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে ওয়াশিংটন এই বিশেষ অভিযান শুরু করার পরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীর কড়াকড়ি আরোপের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইরান তাদের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্রুজ মিসাইল ছুড়লেও তা প্রতিহত করা হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন বাহিনী বেশ কয়েকটি ইরানি ছোট বোট ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে জানান, ওয়াশিংটন কোনো যুদ্ধ চাচ্ছে না এবং এই নৌ-অভিযানটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য সাময়িকভাবে চালু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৮ই এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত টানা পাঁচ সপ্তাহের লড়াইয়ে আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময় দেশটির ওপর প্রায় ২,৮০০টি মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। বর্তমানে এই নতুন দফার উত্তেজনায় আরব দেশগুলোর পাশাপাশি পুরো বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে, কারণ এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
