পরমাণু যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে ইউরেনিয়াম স্থাপন কার্যক্রমের ঐতিহাসিক উদ্বোধন
দেশের জ্বালানি ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম স্থাপন শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পরমাণু শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এটি দেশের কার্বনমুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে এক বড় মাইলফলক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিস্তারিত: মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
- রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ।
- আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধি ও রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এর আগে, রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাশিয়া থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছান। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে হেলিকপ্টারে করে রূপপুর প্রকল্পে যোগ দেন।
কবে নাগাদ আসবে বিদ্যুৎ? প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী:
- জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
- শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও বাজেট: পদ্মা নদীর তীরে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই বিশাল মেগাপ্রকল্প। এখানে দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) এই প্ল্যান্ট পরিচালনার লাইসেন্স এবং বিশেষজ্ঞ টিমের অনুমোদন দেয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত হবে।
